মা মনসা হলেন নাগ বা সর্পের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। তাঁর অন্যতম পরিচিত নাম বিষহরী বা বিষহরা—অর্থাৎ যিনি বিষের হাত থেকে রক্ষা করেন। আবার বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁকে পদ্মাবতী, নাগমাতা, সিদ্ধযোগিনী, জগদ্গৌরী প্রভৃতি নামে ডাকা হয়। লোকবিশ্বাসে তিনি সাপের দংশন থেকে রক্ষা করেন, সন্তান-সন্ততির মঙ্গল করেন এবং সংসারে সমৃদ্ধি আনেন।
তাঁর সঙ্গে সাপের সম্পর্কের কারণও খুব স্বাভাবিকভাবে বাংলার প্রাচীন পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত। বর্ষাকালে নদী, পুকুর, বিল, জলাভূমি ও ধানক্ষেতের বিস্তারে সাপের আনাগোনা বেড়ে যেত। ফলে গ্রামীণ মানুষের কাছে সাপ ছিল একই সঙ্গে ভয়, মৃত্যু এবং প্রকৃতির শক্তির প্রতীক। সেই ভয়কে দেবীর আরাধনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার একটি ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা তৈরি হয়।
🌿 মর্ত্যে মা মনসার আবির্ভাব—পুরাণের কাহিনি
মা মনসার উৎপত্তি সম্পর্কে একটি মাত্র কাহিনি নেই। পুরাণের কাহিনি এবং বাংলার লোককাহিনি বা মঙ্গলকাব্যের কাহিনির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্যটি বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১. কাশ্যপ মুনির কাহিনি: পুরাণভিত্তিক একটি প্রচলিত কাহিনি অনুসারে, পৃথিবীতে যখন সর্পের উপদ্রব অত্যন্ত বেড়ে গেল, তখন সাপের বিষ থেকে মানুষকে রক্ষা করার প্রয়োজন দেখা দেয়। ঋষি কাশ্যপ সর্পবিষ নাশের মন্ত্র নিয়ে সাধনা করছিলেন। তাঁর মানসিক শক্তি বা মনস্ থেকে এক দেবীশক্তির আবির্ভাব ঘটে। সেই কারণেই তাঁর নাম হয় মনসা—অর্থাৎ মনের দ্বারা সৃষ্ট বা মানসজাত। এই কাহিনিতে মনসা সর্পজাতির উপর অধিকারী দেবী এবং বিষনাশিনী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
২. শৈব ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্ক: পরবর্তী হিন্দু ঐতিহ্যে মনসাকে শিবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন লোককথায় তাঁকে শিবের কন্যা হিসেবে দেখানো হয়। তবে এই কাহিনি সর্বত্র একই নয়। এখানেই দেখা যায়, একটি প্রাচীন স্থানীয় বা লোকদেবী কীভাবে ধীরে ধীরে বৃহত্তর হিন্দু ধর্মীয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছেন।
🐍 মনসা পূজার প্রকৃত ইতিহাস কী?
এখানে পুরাণের কাহিনি এবং ইতিহাসকে আলাদা করে দেখা দরকার। ঐতিহাসিক গবেষণা অনুসারে মনসার উপাসনার শিকড় পূর্বভারতের প্রাচীন সর্প-উপাসনা ও লোকবিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষকদের একটি অংশ মনে করেন, মনসা প্রথমে স্থানীয়/লোকদেবী হিসেবে প্রচলিত ছিলেন এবং পরে ব্রাহ্মণ্য হিন্দু ঐতিহ্যের মধ্যে তাঁর স্থান তৈরি হয়।
অর্থাৎ, বিষয়টি এমন নয় যে কোনো একদিন একজন রাজা বা কোনো একজন পুরোহিত হঠাৎ করে মনসার পূজা শুরু করেছিলেন। বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লোকবিশ্বাস → আঞ্চলিক দেবী → সাহিত্যিক প্রতিষ্ঠা → পুরাণীয় সংযোগ → প্রাতিষ্ঠানিক পূজা—এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মনসার পূজা বিস্তার লাভ করে।
SOAS-এর গবেষণায় মনসা-উপাসনার বিকাশের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতকের বাংলার সামাজিক-ধর্মীয় পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তীকালে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে এই পূজা ছড়িয়ে পড়ে।
📖 মনসামঙ্গল কীভাবে মায়ের পূজাকে জনপ্রিয় করল?
বাংলায় মা মনসার জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় মাধ্যমগুলির একটি হল মঙ্গলকাব্য, বিশেষ করে মনসামঙ্গল। মধ্যযুগীয় বাংলায় কবিরা দেবদেবীর মাহাত্ম্য নিয়ে যে দীর্ঘ আখ্যানমূলক কাব্য লিখতেন, সেগুলিকে মঙ্গলকাব্য বলা হয়। মনসাকে কেন্দ্র করে এই সাহিত্যিক ঐতিহ্য কয়েক শতাব্দী ধরে বিকশিত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত কাহিনি— চাঁদ সদাগর – মনসা – বেহুলা – লক্ষ্মীন্দর।
চাঁদ সদাগর ছিলেন প্রবল শিবভক্ত ও ধনী বণিক। মনসা চেয়েছিলেন চাঁদ সদাগর তাঁর পূজা করুন। কিন্তু চাঁদ সদাগর মনসাকে দেবী হিসেবে স্বীকার করতে অস্বীকার করেন। এরপর শুরু হয় দেবী মনসা ও চাঁদ সদাগরের সংঘাত। চাঁদ সদাগরের পুত্র লক্ষ্মীন্দর-এর সঙ্গে বেহুলার বিবাহ হয়। কিন্তু মনসার ক্রোধে লক্ষ্মীন্দর সাপের দংশনে মৃত্যুবরণ করেন।
বেহুলা মৃত স্বামীকে নিয়ে ভেলা ভাসিয়ে দেবলোকের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তাঁর অসীম ধৈর্য, ভালোবাসা ও সাধনার ফলে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্মীন্দরের প্রাণ ফিরে আসে এবং চাঁদ সদাগরও মনসার পূজা গ্রহণ করেন।
এই কাহিনির মাধ্যমে মূলত একটি বিষয় প্রতিষ্ঠিত হয়— মনসার শক্তিকে অস্বীকার করা যায় না; তাঁকে স্বীকার করলে তিনি রক্ষা ও কল্যাণ করেন। মনসামঙ্গল কেবল ধর্মীয় কাহিনি নয়—এটি বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যও।
🌾 কেন বাংলায় মনসার পূজা এত জনপ্রিয় হলো?
- সাপের ভয়: প্রাচীন বাংলায় গ্রামাঞ্চলে সাপের উপদ্রব ছিল অত্যন্ত বাস্তব। বর্ষাকালে এই সমস্যা আরও বাড়ত। তাই মানুষ এমন এক দেবীর কাছে প্রার্থনা করত যিনি সাপের অধিষ্ঠাত্রী।
- কৃষিনির্ভর সমাজ: বাংলার কৃষিজীবী মানুষ প্রকৃতির উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল ছিল। বৃষ্টি, নদী, জলাভূমি, ফসল—সবকিছুর সঙ্গে সাপ ও অন্যান্য প্রাণীর উপস্থিতি জড়িত ছিল।
- সন্তান ও পরিবারের মঙ্গল: মনসাকে শুধু সাপ থেকে রক্ষাকারী দেবী হিসেবেই দেখা হয়নি। সন্তানদের মঙ্গল, পরিবারের কল্যাণ এবং সমৃদ্ধির জন্যও তাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয়।
- সহজ পূজা: অনেক গ্রামাঞ্চলে মনসার পূজার জন্য বিশাল মন্দির বা ব্যয়বহুল আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। ঘট, সিজ গাছের ডাল, মাটির প্রতীক, সাপের ছবি বা পট—বিভিন্ন উপায়ে দেবীর আরাধনা করা হয়। এই সহজলভ্যতাও তাঁর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
🪷 কীভাবে মা মনসার পূজা করা হয়?
অঞ্চলভেদে পদ্ধতি অনেকটাই আলাদা। প্রচলিত উপকরণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্তমানে মনসা পূজায় ঘট স্থাপন, সিজ গাছ বা প্রতীকী মূর্তি, দুধ, কলা, চাল, মধু ও ফুল নিবেদনের রীতি দেখা যায়। কোথাও অষ্টনাগের পূজাও করা হয়।
🌳 সিজ গাছ ও মনসার প্রতীক
বাংলার লোকাচারে অনেক সময় মনসার পূজায় সিজ গাছের ডাল বা শাখা ব্যবহার করা হয়। কোথাও মাটির পাত্র বা ঘটের উপর সাপের ফণা আঁকা হয়, কোথাও মনসার পট ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ, মনসার পূজা একমাত্র মূর্তিনির্ভর নয়। প্রতীকী উপাসনা তাঁর পূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
🐍 অষ্টনাগের পূজা
মনসার সঙ্গে নাগদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তাই অনেক পূজা-পদ্ধতিতে অষ্টনাগের আরাধনা করা হয়। এটি মূলত সর্পশক্তির সামগ্রিক আরাধনা—শুধু দেবী মনসাকে নয়, তাঁর সঙ্গে যুক্ত নাগশক্তিকেও সম্মান জানানোর একটি রীতি।
🍚 রান্না-পূজা বা রন্ধন ব্রত
বাংলার কিছু অঞ্চলে মনসা পূজার সঙ্গে রান্না বা রন্ধন ব্রত যুক্ত। কিছু পরিবারে নির্দিষ্ট দিনে নানা ধরনের রান্না করা হয় এবং দেবীকে নিবেদন করা হয়। অঞ্চলভেদে নিয়ম আলাদা।
🎭 মনসার পূজা শুধু মন্দিরে নয়
এটাই মনসা পূজার অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য। দেবীর পূজা হতে পারে— বাড়িতে → উঠানে → গাছের নিচে → গ্রামের ছোট মন্দিরে → মনসা থানায় → মেলা প্রাঙ্গণে। বাংলার বহু গ্রামে মনসা পূজা মূলত গৃহস্থালি ও লোকাচারনির্ভর। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের মধ্যে এই পূজার ঐতিহ্য অত্যন্ত শক্তিশালী।
📅 কখন ও কোথায় মা মনসার পূজা হয়?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় আষাঢ়-শ্রাবণ, অর্থাৎ বর্ষাকাল। বিশেষ করে শ্রাবণ সংক্রান্তি উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় আকারে মনসা পূজা হয়। ২০২৬ সালের শ্রাবণ সংক্রান্তিতেও নদিয়া, বর্ধমান, বাঁকুড়া, দিনাজপুরসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে মনসা পূজা, মেলা ও লোকাচার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পিছনে পরিবেশগত যুক্তিও পরিষ্কার—বর্ষায় সাপের সঙ্গে মানুষের সংঘর্ষের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
ভারতের কোথায় কোথায় মনসার পূজা হয়?
- পশ্চিমবঙ্গ — মনসার প্রধান কেন্দ্রগুলির অন্যতম।
- অসম — মনসা বা স্থানীয় উচ্চারণে অনুরূপ নামে তাঁর উপাসনা রয়েছে।
- বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা
এছাড়াও ভারতের অন্যান্য কয়েকটি অঞ্চলে নাগ-দেবী বা মনসা-সম্পর্কিত উপাসনার ঐতিহ্য রয়েছে। ব্রিটিশ মিউজিয়ামের সংগ্রহ-তথ্যেও মনসাকে বিশেষত বঙ্গ, বিহার, ওড়িশা ও অসমের লোকদেবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে মা মনসার পূজা:
বাংলাদেশেও মনসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লোকদেবী। বিশেষত গ্রামীণ হিন্দু সমাজে আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে তাঁর পূজা প্রচলিত। বাংলা সংস্কৃতির দুই ভূখণ্ড—পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ—উভয় স্থানেই মনসামঙ্গল, বেহুলা-লক্ষ্মীন্দর ও চাঁদ সদাগরের কাহিনি লোকস্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ভারতের বাইরে কোথায় পূজা হয়?
মা মনসার পূজার মূল ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চল। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে তাঁর পূজা মূলত ভারতীয় ও বাংলাদেশি হিন্দু প্রবাসী সম্প্রদায়ের মাধ্যমে সীমিতভাবে পালিত হতে পারে। মনসার আন্তর্জাতিক বিস্তার প্রধানত বাঙালি ও পূর্বভারতীয় হিন্দু প্রবাসীদের সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু তাঁর মূল তীর্থ ও পূজার ঐতিহ্য এখনও বাংলা ও পূর্বভারতকেন্দ্রিক।
🎨 মূর্তি, সাহিত্য ও উৎসব
মূর্তি কেমন? মনসার মূর্তিতেও লোকঐতিহ্যের অসাধারণ বৈচিত্র্য দেখা যায়। সাধারণত তাঁকে নারী দেবীরূপে, মাথার পিছনে বা চারপাশে সাপের ফণা, হাতে সাপ, কখনও দুই বা চার হাতে, আবার কখনও নাগদের সঙ্গে দেখানো হয়। কিছু প্রতিমায় তাঁর সঙ্গে জরত্কারু ও আস্তিক-কেও দেখানো হয়। বাংলার মনসাপট বা পটচিত্রেও তাঁর অসংখ্য চিত্ররূপ পাওয়া যায়।
ঝাঁপান উৎসব: বাংলার কিছু অঞ্চলে মনসা পূজার সঙ্গে ঝাঁপান উৎসবের ঐতিহ্য রয়েছে। সাপুড়ে, সাপের প্রদর্শন, লোকগান, বাদ্যযন্ত্র এবং মনসার মাহাত্ম্যকেন্দ্রিক লোকসংস্কৃতি—সব মিলিয়ে এটি এক বিশেষ লোকউৎসবে পরিণত হয়েছে।
মনসা ও বাংলা সাহিত্য: মনসামঙ্গল কাব্য শুধু ধর্মীয় গ্রন্থ নয়; এর মধ্যে রয়েছে মধ্যযুগীয় বাংলার বণিকসমাজ, নদীপথে বাণিজ্য, নারীজীবন, পারিবারিক সম্পর্ক, ধর্মীয় দ্বন্দ্ব, লোকবিশ্বাস, শৈবধর্ম, গ্রামীণ সমাজ এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক। একজন লোকদেবীর প্রতিষ্ঠার কাহিনি একটি বৃহৎ সামাজিক মহাকাহিনিতে পরিণত হয়েছে।
🕉️ মা মনসার পূজার মূল ভাবনা
ঐতিহাসিকভাবে মনসার উপাসনার মধ্যে লোকধর্মের শক্তিশালী উপাদান রয়েছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তিনি হিন্দু ধর্মীয় পরিসরে স্থান করে নিয়েছেন। তাই তাঁকে একদিকে লোকদেবী, অন্যদিকে হিন্দু নাগদেবী—দুইভাবেই বোঝা যায়। সব মিলিয়ে তাঁর উপাসনার মধ্যে তিনটি বড় বিষয় দেখতে পাওয়া যায়:
- 🛡️ প্রথমত — ভয় থেকে আশ্রয়: সাপের বিষ ও মৃত্যুভয় থেকে মানুষ দেবীর কাছে আশ্রয় চেয়েছে।
- 🌱 দ্বিতীয়ত — প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান: মানুষ উপলব্ধি করেছে যে প্রকৃতিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না; বরং তার শক্তিকে সম্মান করতে হয়।
- ✨ তৃতীয়ত — মঙ্গল ও কল্যাণ: সন্তান, পরিবার, সম্পদ, কৃষি ও জীবনের নিরাপত্তার জন্য দেবীর আশীর্বাদ কামনা করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক সারসংক্ষেপ
মনসার পূজার ইতিহাসকে এক লাইনে বললে দাঁড়ায়— প্রাচীন সর্প-উপাসনা ও লোকবিশ্বাসের মাটিতে জন্ম → পূর্বভারতের গ্রামীণ সমাজে বিস্তার → মধ্যযুগে মনসামঙ্গলের মাধ্যমে সাহিত্যিক প্রতিষ্ঠা → পুরাণীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ → আজও বাংলা ও পূর্বভারতের বর্ষাকালীন লোকধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেবী।
তাঁর পূজার পিছনে প্রাচীন সর্প-সংস্কৃতি, বাংলার পরিবেশ, গ্রামীণ সমাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তীকালের পুরাণ ও মঙ্গলকাব্য—সবকিছুর সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে।